শেখ মোস্তফা কামাল, কেশবপুর (যশোর):
যশোরের কেশবপুরে জমি দখল ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নুর ইসলাম গাজী নামে এক ব্যক্তি।
শনিবার(৭ই-মার্চ) বেলা ১২টায় কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নুর ইসলাম গাজীর পক্ষে তার ছেলের বউ(বউমা) বলেন, তিনি উপজেলার ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। আমি কৃষক ও দিনমজুর, আমার অনকে কষ্টে ক্রয়কৃত ২০০৬ সালের ১১ মাসে ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজায় কালাবাসা নামক স্থানে একই গ্রামের মোঃসামাদের নিকট থেকে ১.৫ শতক জমি নিজ নামে ক্রয় করি এবং পরবর্তীতে তা নামপত্তন করি। যার খতিয়ান নং:১৪৮৭, দাগ নং: ২৮৩৯। ওই জমির কিছু অংশে একটি চা-এয় দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেই। এরপর ২০১২ সালে ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের মোকাম গাজী এই মালিকের একই দাগ হতে প্রথমে ২ শতক পরবর্তীতে আরও ৪ শতক সর্বমোট ৬ শতক জমি ক্রয় করে। এরপর থেকেই সে শুরু করে আমাদের জমির ভেতর দিয়ে পাকা নির্মাণ কাজ করার। বিগত ২০২৫ সালের প্রথম দিকে সে জোর পূর্বক আমার জমিতে ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা চালায়। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে মোকাম গাজীর হুমকীতে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসি। মোকাম গাজী তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতা ও অবৈধ টাকার জোরে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে আমার জমির কিছু অংশ জবর দখলে নিয়ে পাকা প্রাচীর নির্মাণ করে ভোগ দখল করছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি, এছাড়াও কেশবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম শহিদ এবিষয়ে জানেন এবং তাকে আইনের আশ্রয় দেওয়ার পরামর্শ দেন।পরে তিনি আইনগত সহায়তা নিতে গেলে প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে দাবি করেন। এমনকি তার জমির একটি অংশ দখল করে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করার জন্য বহুবার দুই নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মশিউর রহমানের নিকট গেছি, কিন্তু তিনি বিষয়টি মীমাংসা না করে আমার প্রতিপক্ষকে উস্কানী দিয়ে জমি দখলে সহযোগিতা করে দিয়েছেন, পরবর্তীতে তিনি আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই অভিযুক্ত মোকাম গাজী তাদের জমির অংশ জবরদখল করে প্রাচীর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নুর ইসলাম গাজী বলেন, পরে বিষয়টি নিয়ে কেশবপুর পৌরসভার কাছে লিখিত আবেদন করলে গত ০১ মার্চ ২০২৬ তারিখে পৌরসভার সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি মাপজোক করা হয়। তখন দেখা যায় তাদের জমির প্রায় ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মোকাম গাজী ও তার সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।