রবিউল ইসলাম, রাজশাহীঃ
ব্যবসায়িক পার্টনারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক তুহিন। তিনি বলেছেন, পাওনা টাকা ফেরত না পেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকবে না। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তুহিন বলেন, টাকা না পেলে নিশ্চিত আমার মৃত্যু ছাড়া উপায় নেই। তা না হলে আমাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে। পাওনাদাররা প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকি দিয়ে আসছে।
তিনি জানান, দুর্গাপুরের মাড়িয়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তিনি অংশীদারী ভিত্তিতে একটি পুকুর খনন ও মাছ চাষের ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে আমিনুল ইসলাম ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার অজুহাতে সব পুকুর নিজের নামে লিখে নেন। তুহিন সরল বিশ্বাসে তাতে সম্মতি দেন। কয়েক মাস পর আমিনুল ইসলাম এক এক করে পুকুরের সব মাছ বিক্রি করে দিতে শুরু করেন।
এরপর পুকুর খনন ও মাছ চাষের হিসাব-নিকাশ, মূলধন এবং লাভের ভাগাভাগি নিয়ে দুই পার্টনারের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, যা এক পর্যায়ে প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়। বিষয়টি নিয়ে ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি দুর্গাপুরের তৎকালীন পৌর মেয়র সাইদুর রহমান মন্টুকে অবহিত করেন। মেয়র বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন এবং সন্তোষ, হাতেম আলী ও মকলেস আলীকে নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করেন।
উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন হওয়ার পর, বিষয়টি চূড়ান্তভাবে মীমাংসা ও সমাধানের জন্য তিন সদস্যের বোর্ডের উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। সেই বোর্ড আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে ওবায়দুল হক তুহিনের প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পাওনা বলে নির্ধারণ করে। এ মর্মে উভয় পক্ষের স্বাক্ষরসহ একটি আপোষনামাও সম্পাদিত হয়।
কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর অতিবাহিত হলেও আমিনুল ইসলাম সেই টাকা পরিশোধ করেননি। টাকা চাইতে গেলে উল্টো চাঁদাবাজির হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে আমিনুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাও করেন, যে মামলায় তুহিন ৪ দিন কারাবরণও করেন। বর্তমানে তিনি পাওনাদারদের হুমকির মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তুহিন আরও অভিযোগ করেন, তিনি টাকা চাইতে গেলেই আমিনুল ইসলাম তার সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জামাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে তিনি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাছ চুরির একটি মামলা করলেও, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
নিরুপায় হয়ে তুহিন বলেন, এ টাকা না পেলে পাওনাদারদের ভয়ে আমাকে হয় আত্মহত্যা করতে হবে, নয়তো দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।তিনি এই বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক কামলা ও ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।