সাইফুল ইসলাম রাজশাহী :
পূর্ব বিরোধের জের ধরে এলাকার অসহায় কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে ১০ টি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বিসিএসে সুপারিশকৃত এক প্রশাসন ক্যাডার। গত ৫ বছরে তিনি বিভিন্ন সময়ে ১০ টি মামলা করেছেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পশুপতিপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে মনিরুজ্জামানকে অভিযুক্ত করে ভুক্তভোগী পরিবার সহ এলাকাবাসী।
২২ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০ টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সদরের খাবারবাড়ি হোটেলে সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন এর আয়োজন করেন ঐ কৃষক পরিবারটি। সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাজমুল হোদার ছেলে আশিকুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে আশিকুল ইসলাম বলেন,আমি মোঃ আশিকুল ইসলাম (২৮), পিতাঃ নাজমুল হোদা, সাং- পশুপতিপুর, থানাঃ গোদাগাড়ী, জেলাঃ রাজশাহী। আমি একজন পেশায় কাঠ মিস্ত্রি এবং আমার পরিবারের লোকজন অসহায় দরিদ্র কৃষক। আমরা এবং একই গ্রামের মনিরুজ্জামান প্রতিবেশী হই। পূর্ব বিরোধের জের ধরে মনিরুজ্জামান আমি এবং আমার পরিবার সহ গ্রামের অসহায় দরিদ্র কৃষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে হয়রানি মূলক, মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন । মনিরুজ্জামান, পিতাঃ নুরুজ্জামান একজন বিসিএস সুপারিশকৃত প্রশাসন ক্যাডার। তিনি এক সময়ে রাজশাহীর আদালতে চাকুরীরত ছিলেন।
সে সুবাদে তিনি, আমি এবং আমার পরিবার সহ গ্রামের অসহায় দরিদ্র কৃষকের নামে প্রায় ১০টি মামলা দায়ের করেন। যা সম্পূর্ণমিথ্যা ও ভাইরানী মূলক মামলা । নুরুজ্জামান বিগত সরকারের আমলে একজন দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মার্কেট সংলগ্ন এখনো একটি দলীয় কার্যালয় দৃশ্যমান আছে। সেই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমার নামে ৫টি, আমার পিতা নাজমুল হোদার নামে ০৭টি, আমার ভাই মোঃ আব্দুর রহিমের নামে ৫টি ও আমার মাতা রমেশা বেগম এর নামে ১টি মামলা সহ গ্রামের ২০ জন মানুষের বিরুদ্ধে মোট ১০টির অধিক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন এবং উক্ত মামালগুলো বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সুস্থ তদন্ত ছাড়াই জোর পূর্বক আমাদের আটক করে।
মনিরুজ্জমানের রোষানলে পরে আমরা সর্বশ্য হারিয়েছি। আমাকে মনিরুজ্জামান ০১৭৮৭-৯২১৮৭৩ নম্বর থেকে র্যাব কর্মকর্তা পরিচয়ে একাধিক বার তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি প্রদান করেছেন। উক্ত মামলা গুলো রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১, গোদাগাড়ী মডেল থানা ও রাজপাড়া, রাজশাহী থানায় দায়ের করেন। উক্ত মামলাগুলোর নম্বর গোদাগাড়ী মডেল থানায় ৭ অক্টোবর ২০২১ সালের মামলা নং- ২১, ৩ডিসেম্বর ২০২১ সালের মামলা নং- ৪২৩, ১৬নভেম্বর ২০২১ সালে মামলা নং- ৪২৬, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১ সালে মামলা নং- ৪৩৩, ২০২২ সালের মামলা নং- ৪৩৭ পি, ৭ মার্চ ২০২১ সালের মামলা নং- ৪৪৯ পি, ২০২২ সালের মামলা নং- ৫১৬ পি, ১১ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে মামলা নং- ১৪৫৩৪ এবং রাজপাড়া থানায় ৮ নভেম্বর ২০২২ সালের মামলা নং- জিআর ৪৫৮/২২ সহ একাধিক হয়রানি মূলক মামলা তিনি গ্রাম আদালতেও করেছেন।
মামলাগুলোর বাদী হিসেবে কোন মামলায় মনিরুজ্জামান নিজে, কোন মামলায় তার ভাই বদিউজ্জমান, আবার কোন মামলায় তার দুলাভাই মতিনকে বাদী করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার এবং পরিবার সহ গ্রামের অসহায় দরিদ্র লোকজনের দাবী পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের মিথ্যা বানোয়াট ও হয়রানি মূলক মামলাগুলো প্রত্যহার করতে হবে। এছাড়াও প্রশাসন সহ দেশের বর্তমান সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ আমাদের নামে করা মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা গুলো সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় আনা হোক।
ঐ এলাকার আমির হোসেন বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের মিথ্যা মামলায় পড়ে আমি আমার নিজ বাড়িতে লালন পালন করা ৫ টি বিভিন্ন প্রকারের গরু খুইয়েছি। এছাড়া কেউ বাড়ির ধান বিক্রি করে মামলা চালিয়েছে, আবার কেউ জমি বিক্রি করে। কেউ আবার চাকুরীও হারিয়েছেন। এছাড়াও মনিরুজ্জামান বাড়ির মহিলাদেরকেও মামলায় ফাঁসিয়েছেন।বর্তমানে তার মামলায় পড়ে আমরা সর্বশান্ত হয়েছি।বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।