পরেশ দেবনাথ, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার সমাপনী দিনে সম্মাননা
স্মারক ও সার্টিফিকেট পেলেন সফল কৃষি উদ্যোক্তা সেতু। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারী-২৫) শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে মহাকবি মধুসূদন পদক প্রদান ছিলো বিশেষ আকর্ষণ। কিন্তু অনিবার্য কারণ বসতো এবারের মধুসূদন পদক প্রদান করা হয়নি। কিন্তু মধুমেলার ভেতর অনুষ্ঠিত কৃষিমেলায় সফল কৃষি উদ্যোক্তার পুরস্কার পেলেন শেখ মুহাইমিনুল ইসলাম সেতু। বৃহস্পতিবার সমাপনী দিনে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মন্ত্রী পরিষদের সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ কৃষিমেলা পরিদর্শন করেন এবং ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন বিষয়টি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কৃষি মেলা ঘুরে দেখা গেছে, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কৃষি উদ্যোক্তা শেখ মুহাইমিনুল ইসলামের কেঁচো সার উৎপাদন, টিটাবাজিতপুর গ্রামের কৃষক নূর ইসলামের প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার ৩৭ কেজি ওজনের মানকচু, সুজাপুর গ্রামের কৃষক দেবু দাসের ৭৩ কেজি ওজনের মেটে আলু, ২৫ কেজি ওজনের মিষ্টি কুমড়া, হাজারী কলার কাঁদি, কাঁঠালসহ তিন শতাধিক কৃষিপণ্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
কৃষি উদ্যোক্তা শেখ মুহাইমিনুল ইসলাম সেতু উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া ভার্মি কম্পোস্টের পরিচালক ও ওই এলাকার শেখ তসলিম উদ্দীনের ছেলে। বেকার যুবক থেকে কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে গত কয়েকবছর ধরে তার কারখানায় উৎপাদিত কেঁচো ও ভার্মি কম্পোস্ট এলাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পাশাপাশি তৈরি করেছেন নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা। সেতু রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহারে মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করতে এ মেলায় প্রদর্শনী দেন। এতে মেলায় আসা দর্শনার্থী ও কৃষকদের কাছ থেকে বেশ সাড়াও পান তিনি। কৃষিতে ভূমিকা রাখায় মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী এ মেলার সমাপনী দিনে ‘সফল কৃষি উদ্যোক্তা’ হিসেবে শেখ মুহাইমিনুল ইসলাম সেতুর হাতে পুরস্কার তুলে দেন সদ্য যোগদানকারী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন। মেলায় প্রদর্শনীর জন্য কৃষকদের আনা শতাধিক কৃষি পণ্যের উপর বিবেচনা করে তাকে ‘সফল কৃষক পুরস্কার-২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।
সদ্য যোগদানকারী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে মধুমেলার ভেতর এ কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলার আয়োজন করা হয়। এগুলো সাধারনতঃ উপজেলা পর্যায়ে হয়ে থাকে কিন্তু মধুমেলায় লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী, কৃষক-কৃষাণী সমাগম হওয়ায় আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছি। তিনি আরও বলেন, সাগরদাঁড়ির কৃষি মেলায় সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে শেখ মুহাইমিনুল ইসলাম সেতুকে সম্মাননা স্মারক ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।