রিপোর্ট,শেখ মোস্তফা কামাল
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘মধু মেলা’র মাঠের নিলাম নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
উন্মুক্ত নিলামে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদ বিশ্বাস এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদের অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
তবে নিলাম চলাকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে দুই পক্ষের অবস্থানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকায় মেলার মাঠ বিক্রি হয়েছে।
উন্মুক্ত ডাকে বিএনপির নেতা-কর্মী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি অংশ নিলেও সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সব কটি ক্যাটাগরিতে মাঠ পেয়েছেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম হোসেন। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদের অনুসারী।
জানতে চাইলে কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা মিলেমিশে রাজনীতি করি। আমি বা আবুল হোসেন আজাদ আমরা কেউ ঘটনাস্থলে ছিলাম না। যারা নিলামে অংশ নিয়েছে, তারা ভিন্ন ধরনের মানুষ। আমার অনুসারী বলে কিছু নেই। সবাই বিএনপির কর্মী-সমর্থক। দলীয় কারণে সবাইকে নিয়ে চলতে হয়।’
বিএনপির নেতা আবুল হোসেন আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাতাহাতির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানা নেই। আমি ঢাকাতে আছি। কোনো টেন্ডার, ভাগ-বাঁটোয়ারায় আমি অংশ নিই—এমন কেউ বলতে পারবে না। কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করে; ব্যক্তির দায় কখনো সংগঠন নেবে না।’
এ বিষয়ে কেশবপুরের ইউএনও জাকির হোসেন বলেন, নিলাম অনুষ্ঠানের কক্ষে কোনো হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেনি। বাইরে কিছু ঘটেছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তিনি আরও বলেন, অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নিলামে অংশ নেন। প্রতিবছর কেশবপুরে নিলাম হলেও এবার পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হয়েছে।