রিপোর্টঃ শেখ মোস্তফা কামালঃ
জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন লিয়ন কুমার দাস। আর দশটা ছেলেমেয়ের মতো তার জীবনধারণ স্বাভাবিক না হলেও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার প্রবল ইচ্ছাশক্তি ধারণ করেন লিয়ন। সমাজে পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের কর্মদক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করার ইচ্ছা তার,তিনি সকলের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চান।তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা গ্রামের স্বপন কুমার দাস ও জ্যোৎস্না রাণী দাস দম্পতির বড় ছেলে।লিয়ন দাস বলেন, ‘২০২৪ সালে আমি নগরঘাটা কবি নজরুল বিদ্যাপীঠ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করে বেগম খালেদা জিয়া কলেজে এইচএসসি মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছি। আমি ডান হাতে লিখতে পারি না। বাঁ হাত দিয়ে লিখি। তবে সব সময় আমার হাত নড়াচড়া করে। স্বাভাবিক শক্তি পাই না। কথা বলতে আমি কিছুটা জড়তা উপলব্ধি করি। গুছিয়ে বলার চেষ্টা করলেও মানুষের বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হয়।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারিভাবে প্রতিবন্ধীভাতার যে অর্থ পাই তা আমার পড়াশোনার জন্য যথেষ্ট নয়। আমি কখনও বসে থাকি না। লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিওর প্রকল্পে কাজ করি। অভাবের কারণে পরিবার আমার ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা দিতে পারে না। জ্যোৎস্না রাণী দাস বলেন, ‘২০০৭ সালে লিয়ন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিয়েছে। শিশু বয়সে সেটা আমরা কেউ বুঝতে পারিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি লিয়ন আর দশটা ছেলের মতো স্বাভাবিক নয়। স্বামী একজন ভ্যানচালক। অভাবের সংসারে তিন ছেলেকে নিয়ে কোনোরকমে দিন পার করছি। লিয়নের ইচ্ছা থাকায় তাকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’নগরঘাটা কবি নজরুল বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক সাইদুল আলম বাবলু বলেন, ‘লিয়ন মেধাবী ছাত্র। শিক্ষকরা তাকে খুবই স্নেহ করি। সেও আমাদের যথেষ্ট সম্মান করে। তার ইচ্ছা অনুযায়ী সে যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে পারে সেই দোয়া করি।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, ‘প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য লিয়ন কুমার দাসকে দেওয়া হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার জন্য যদি পারিবারিকভাবে আমার কাছে সহযোগিতা চাওয়া হলে জেলা প্রশাসককে জানিয়ে এলআর ফান্ড থেকে আর্থিক সহযোগিতা করতে পারব। এ ছাড়া তার উচ্চশিক্ষার প্রতি যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে আমি সন্মান জানাই।