ছাজ্জাত বিশ্বাস, স্টাপ রিপোর্টার:ঝালকাঠির রাজাপুরের পূর্ব কানুদাসকাঠী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ বশির উল্লাহ অব্যাহতি না নিয়েই কাঠালিয়া উপজেলার উত্তর চরাইল আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া পূর্ব কানুদাসকাঠী দাখিল মাদ্রাসার দুই পদে ১৩ লাখ টাকা নিয়োগ বানিজ্যসহ নানা অভিযোগের ঘটনায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ওই মাদ্রাসার ৮ শিক্ষক।
ইউএনওর নির্দেশে বুধবার বেলা ১১ টায় তদন্ত শুরু করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, পূর্ব কানুদাসকাঠী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ বশির উল্লাহ ২০১৫ সালে যোগদান করেন। সেই থেকে আর্থিক কেলেঙ্ককারীসহ বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন। শিক্ষক আঃ হক ক্বারী অভিযোগ করেন, তিনি অসুস্থ থাকাকালীন বেতন ভাতাদি প্রদানে উৎকোচ গ্রহন করে। করনিক মোঃ আলামীন খানকে প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অনুপস্থিত রেখে বেতনের জন্য তার কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করেন এবং সুপার ২০২২ সালে একজন আয়া ও একজন নিরাপত্তকর্মী অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়ে প্রার্থী দুজনের কাছ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে।
এছাড়া শিক্ষক মোঃ জয়নুল আবেদীনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায় করেছেন। করনিক আলামীন অভিযোগ করে জানান, তাকে শারীরিক নির্যাতন করে যাহার মোবাইলে অনেক ডকুমেন্ট থাকায় তা ছিনিয়ে নিয়েছেন আর ফেরত দেয়নি। তিনি নিয়মতি মাদ্রাসা না এসেও হাজিরা দিয়ে অন্য শিক্ষকদের নিয়ম বহিভূতভাবে বেতন বন্ধ রেখে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
সহকারী শিক্ষক ফরিদা আক্তার অভিযোগ করে জানান, তার কাছ থেকে বি.এড.এর বিল করার নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি, সরকারী অনুদান এবং বেসরকারী চাঁদা দান, ছাত্রদের কাছ থেকে বিনা রশিদে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন যাহার হিসাব নিকাশ প্রতিষ্ঠানের কোনো আয় ব্যয়ের খাতায় উল্লেখ করেননি। তিনি মাদ্রাসায় অনিয়মিত থেকে মাঝে মাঝে এসে স্বাক্ষর দিয়ে যেতেন যাহার প্রমাণ স্বরূপ উনি একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত স্বাক্ষর করেছেন। এই মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি না নিয়ে কাঠালিয়ার উত্তর চরাইল আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় যোগদার করে কিন্তু প্রতিষ্ঠানে কাগজপত্র সহ সুপারের কাছে হন্তান্তর করেননি এমনকি প্রতিষ্ঠানের অনলাইনে কাজ করার জন্য পাসওয়ার্ড দেননি। শিক্ষক জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে নানা অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের বরাবর অভিযোগ দিলে তিনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তদন্ত সাপেক্ষে সকল প্রমাণাদি পেশ করলেও আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে বিচারকার্য স্থগিত রাখেন।
অভিযোগের বিষয়ে পূর্ব কানুদাসকাঠী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ বশির উল্লাহ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, গত ৩১ অক্টোবর পূর্ব কানুদাসকাঠী দাখিল মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করে কাঠালিয়ার উত্তর চরাইল আদর্শ দাখিল মাদ্রাসায় ১ নভেম্বর যোগদান করেছি। বর্তমান সভাপতি ইউএনও মহোদয় অব্যাহতি দেয়নি।
এ কারনে অব্যাহতির বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে ডেকেছে, সেখানে আছি, অব্যাহতি নিবো। জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা আলম জানান, অভিযোগ তদন্তে উভয় পক্ষকে ডেকেছি, উভয় পক্ষের মতামত নেয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।