গৌরাঙ্গ বিশ্বাস বরগুনা প্রতিনিধি: গ্রামীণ জীবনে একসময় প্রচলিত কিছু বিশ্বাস ও রীতি এখনও টিকে আছে গ্রামবাংলার মানুষের মধ্যে। লাউ-কুমড়ার জাংলা কিংবা ফলবৃক্ষের ঢালে ঝুলে থাকা ঝাঁটা, চুন দিয়ে আঁকা গোল চিহ্ন, ভাঙা জুতা বা বোতল—এসবই যেন গ্রামের মানুষের পুরনো বিশ্বাসের নিদর্শন। তারা মনে করেন, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে অশুভ দৃষ্টি থেকে লাউ, কুমড়া কিংবা গাছের ফলমূলকে রক্ষা করা যায়।
এক গ্রামবাসী বললেন, “অশুভ দৃষ্টির প্রভাব প্রতিহত করার জন্য আমরা ভাঙা সলা, গোল চিহ্ন বা ঢালে ঝুলানো জিনিস ব্যবহার করি। কিন্তু মানুষের মনের দুষ্টচক্র দূর করার মতো কোনো পদ্ধতি আছে কি? প্রকৃতির নিয়মে এসবই আমাদের জন্য কার্যকর হয়ে আসছে।”
গ্রামের কৃষকদের একজন প্রকৃত কৃষি বিজ্ঞানীর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রকৃতির সঙ্গে জড়িয়ে। প্রকৃতি তাদের আপন, তারা প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম। এক বৃদ্ধ কৃষক বলেন, “মানুষ মানুষকে ঠকাতে পারে, কিন্তু প্রকৃতি কখনো ঠকায় না। প্রকৃতি শুধু দিয়ে যায়। প্রকৃতি হলো পৃথিবীর বড় দাতা। প্রকৃতি আছে বলেই আমরা বেঁচে আছি।”
গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির নিবিড় প্রেম প্রকৃতির প্রতি গ্রামীণ মানুষের এ ভালোবাসা, বিশ্বাস, এবং চর্চা সত্যিই অসাধারণ। আধুনিক বিশ্বের উন্নয়ন ও প্রযুক্তির চাপে অনেক পুরনো রীতিনীতি হারিয়ে গেলেও গ্রামীণ জীবনের এই বিশ্বাসগুলো তাদের ঐতিহ্যের প্রতি অটল থাকার অনন্য উদাহরণ।