ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে গংগাচড়ায় উদযাপিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র উৎসব, অন্নকূট মহোৎসব।
রবিবার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে গংগাচড়া বাগপুর শ্রী শ্রী ভক্তি শ্রীরূপ ভাগবত গৌড়ীয় মঠ প্রাঙ্গণ, বাগপুর আশ্রম পাড়া, বড়বিল, গংগাচড়া, রংপুর মন্দিরে এ মহোৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে অনুষ্ঠিত হয় নানান ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।
অন্নকূট উৎসবের সূচনা হয় শ্রী শ্রী গিরি গোবর্ধন পূজার মাধ্যমে। এর পরপরই পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয় শ্রীমদ্ভাবগত পাঠ, যঙ,ভজন কীর্তন, রাজভোগ ও আরতি নিবেদনসহ পালা কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন গিরি গোবর্ধন পূজা ও অন্নকূট উৎসবের সভাপতি শ্রী ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার, আর উদ্বোধন করেন, বিনোদ চন্দ্র সরকার । এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাধা গিরিধারী মন্দিরের সভাপতি শ্রী পাদ লিটু মুখার্জীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তারা, যারা ভক্তদের ধর্মীয় জ্ঞান প্রদান করেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক রবীন্দ্রনাথ সরকার রিপন, শ্যামল সরকার, মৃতুঞ্জয় রায়, গংগাচড়া উপজেলা সমন্বয়ক স্বপন রায়,রতন রায়, মিন্টু রায়,হীরন রায়, প্রান্ত সরকার সহ অনেকে।
উৎসবে জেলা ও উপজেলার সনাতন ধর্মালম্বী নারী-পুরুষরা অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় সহস্র প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ভক্তদের মধ্যে সুস্বাদু কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
অন্নকূট উৎসবের তাৎপর্য ‘অন্নকূট’ শব্দের অর্থ ‘অন্নের পাহাড়’। এই উৎসবে ভগবান গিরিরাজ গোবর্ধন, গো ও ব্রাহ্মণের পূজার বিধান রয়েছে। দ্বাপরযুগে ভগবান দামোদর (গোপাল) ইন্দ্রের ক্রোধ থেকে ব্রজবাসীদের রক্ষা করতে গিরিরাজ গোবর্ধনের পূজা এবং গো ও ব্রাহ্মণের পূজার প্রচলন করেছিলেন। পরবর্তীতে কলিযুগে মাধবেন্দ্রপুরিপাদ পুনরায় এই পূজার প্রচলন করেন।